Archive for March, 2010
যুদ্ধাপরাধ ও ন্যায় বিচার
বিচার ব্যবস্থা নিয়ে কোন কথা বলার সুযোগ নেই, আদালত অবমাননা হয় তাতে। তবুও মুখ বুজে সব কিছু মেনে নিলে নিজেকে গাধা মনে হয়, চোখবুজে সত্যকে যে আড়াল করা দায়। বিশ্বে মানবাধিকার লংঘন নতুন কিছু নয়। অথচ ন্যায় অন্যায়ের ভেদাভেদ না করে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা কোন সভ্য সমাজেই স্বীকৃত নয়। বাংলাদেশ তৃতীয় বিশ্বের দূর্ণীতিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় এখানে মানবাধিকারের লংঘনের হারও বেশী। বিশেষ করে সরকারের অনৈতিক হস্তক্ষেপে ন্যায়বিচার প্রতিনিয়ত ব্যহত হয় এদেশে। নিম্নআদালত থেকে সরকার বিরোধী কেউ সহজে জামিন পেয়েছে এমন ঘটনা ভাবা যায় না এখানে।
Popularity: 70%
পহেলা বৈশাখ
সে অনেক আগের কথা। কয়েক পুরুষ আগের কথা। আমাদের পূর্ব পুরুষেরা যা কিছু দেখতেন, সম্মোহিত হতেন, সবকিছুর সম্মানের কাছে, সব কিছূর শক্তির কাছে তারা নিজেদেরকে নিতান্ত ক্ষুদ্র মনে করতেন। সাপ-বিচ্ছু থেকে শুরু করে বস্তুজগতের এমন কোন শক্তি কিংবা প্রাণের অস্তিত্ব ছিল না যা মানুষের পূজার সামগ্রীতে পরিণত হয় নি। আমাদের পূর্বপুরুষেরা মানুষের ভেতর সৃষ্টিকরে রেখেছিল শ্রেণীভেদ, একের স্পর্শে অন্যের পবিত্রতা নষ্ট হতো, একের উপস্থিতিতে অন্যের আসবাবপত্র, বাসন কোসন সবকিছু অপবিত্র হতো। তখনকার সমাজে ইশ্বরের বানীও ছিল গুটিকয়েক মানুষের সম্পত্তি, ইশ্বরের বানী শোনার অধিকার ছিল সংরক্ষিত। তাই তো কারো কানে ইশ্বরের বানী ভুলেও পৌঁছুলে তাকে গুনতে হতো চরম মাশুল, গলিত সীসায় বন্ধ করে দেয়া হতো তার কান ।
Popularity: 34%
অটোসাজেশন
নটা পাঁচটা অফিস। অফিস শেষে বাড়ী ফিরেছে অনেক আগেই সবাই। ঘড়ির কাটা টিক টিক করে এগিয়ে চলে গভীর রাতের পানে। তবু বাড়ি ফেরা হয় না। জরুরী কাজে প্রায়ই গভীর রাতঅব্দি কেটে যায় একাকী বিষন্ন অফিসে।
ঘড়ির কাটা রাত এগারোর ঘর ছুঁয়েছে কিছুক্ষণ আগে, বারোটা বাজতে বুঝি আর দেরী নেই। অফিসের নাইটগার্ড ক্ষণে ক্ষণে ঘুরে যায় নীরস বদনে। বুঝতে কষ্ট হয় না, ঘুমের অনিয়ম একদমই সহ্য হয় না বেচারার। আমারও কি সয়? আমারও ঘুমের জন্য প্রাণ কাঁদে, তবু সব সময় নিয়ম মানা যায় না। দাড়োয়ানকেই বা দুষব কেন, সবচেয়ে কাছের যে বউ সেও টিপ্পনী কাটে, রাতটা অফিসে কাটালেই পারো। হ্যা, পারা যেত, বাথরুম আছে, থাকার জন্য পর্যাপ্ত যায়গাও আছে, শুধু অফিসে রাত্রি যাপনের অনুমোদন নেই কারো।
Popularity: 69%
সালাহউদ্দিন আইয়ুবীর অপেক্ষায়
জাপানের ফুটবল খেলা আমাকে বেশ টানে। নিখুঁত খেলা। মাপা মাপা শট। এক ইঞ্চি হেরফের নেই, নির্ধারিত স্থানেই আঘাত হানে বল। দলটির খেলোয়াররা যেমন পারদর্শী তেমনি তার সাপোর্টাররাও অন্যদের চেয়ে একটু আলাদা, দলবেধে উচ্ছাস করে, দলবেধে বিলাপ করে। এত কিছুর পরও দলটি গোলপোস্টের কাছে গিয়ে হেরে যায়, প্রতিপক্ষের জালে কাঙ্খিত গোলটি ঢুকাতে ব্যর্থ হয়। কঠোর শৃংখলাবন্ধ জাপানী দলে ম্যারাডোনার মতো নেই কোন স্ট্রাইকার, তাই তীরে এসে তরী ডোবে বারবার।
বিশ্বব্যাপী ইসলামী আন্দোলনগুলোরও একই অবস্থা। কঠোর নিয়মশৃংখলা মেনে দলগুলো হাটি হাটি পা পা করে সামনে এগিয়ে চলছে। আন্দোলনে নেতৃত্বের অভাব নেই, বরং দলে কর্মীর চেয়ে নেতাই বেশী। তারপরও দলগুলো কাংখিত মানের নেতৃত্বের অভাবে বারবার হোটচ খায়, কিছুতেই ইসলামী আন্দোলনের তরী সাফল্যের সোনালী বন্দরে ভেরানো যায় না, বিশ্বব্যাপী কাংখিত নেতৃত্বের সংকট কিছুতেই কাটে না।
Popularity: 75%
নদী বাঁচাও, দেশ বাঁচাও
নদীর কূল নাই, কিনার নাই রে…
নদীর নামটি ধানসিঁড়ি। অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকি নদীটির দিকে, সত্যিই নদীর কূল নাই, কিনার নাই। থাকবেই বা কি করে, নদীটি মরে ফসলী জমি হয়েছে অনেক আগেই। ধানসিঁড়ি বলে কথা, ধানের আবাদ এখন নদীর বুকে, কূল নাই, কিনার নাই, ফসলী মাঠের সাথে মিলে মিশে একাকার।
জীবনানন্দ দাশ চেয়েছিলেন শালিকের বেশে ফিরবেন ধানসিঁড়িটির তীরে। জীবদ্দশায় তিনি কাটিয়েছেন কোলকাতা নামের রঙ্গীন শহরে, কবি বিহনে শোকেই শুকিয়ে গেছে ধানসিঁড়ি। অবশ্য ভারত সরকারও চায় নি কবি ফিরে আসুক বাংলার বুকে, তাই তো চপলা কিশোরীর মতো একে বেকে চলা নদীগুলোর প্রবেশ পথে বেঁধে দেয়া হয়েছে বাঁধ। ফারাক্কা, ফুলবাড়ি, বাহারী নামের বাঁধের বাধায় থমকে গেছে নদীর কলতান। তাইতো কল কল ছল ছল নদীগুলো আর করে না টলমল।
নদীর পললে সৃষ্ট পৃথিবীশ্রেষ্ঠ ব-দ্বীপটির প্রতিটি নদীতে পানির জন্য হাহাকার। প্রমত্তা পদ্মা দিয়ে পার হয়ে যায় গরু পার হয় গাড়ি। পদ্মানদীর মাঝিদের শুধুই হাহাকার, কুবেরের দল ভারতীয় …
Popularity: 5%
মুক্তিযুদ্ধ ও আমার ভাবনা
আমার জন্ম স্বাধীনতার অনেক পরে। স্বাধীনতা যুদ্ধে যোগদানের কোন সুযোগ হয়নি, দেখার সুযোগ হয়নি, তাই এ যুদ্ধ নিয়ে বড় বড় মন্তব্য করার ধৃষ্টতাও আমার নেই। আসলে সময়ই সব কিছুর প্রকৃত সাক্ষী। কে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা, কে রাজাকার, কে সত্যের সৈনিক, কে অসুরের দোসর তা সঠিক ভাবে নিরুপনের সময় আমার মনে হয় আমরা পার করে এসেছি। এখন আমরা এ নিয়ে যতই গবেষণা করিনা কেন সুফল পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।
একজন মানুষ কেবল মাত্র মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বলেই সকল সুযোগ -সুবিধা পাবে, ধরাছোঁয়ার উর্ধে থাকবে, আর একজন মানুষ রাজাকারের সন্তান হওয়ার পরও সে যদি এদেশের প্রতি অনুগত হয়, এদেশকে তার নিজের দেশ মনে করে দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করে তবুও তাকে দূরে ঠেলে দেব, তা আমার কাছে সামপ্রদায়িকতা বলেই মনে হয়। আমরা যারা স্বাধীনতার পরে জন্ম নিয়েছি, আমাদের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস নেই। আমাদের কাছে যে ইতিহাস রয়েছে তা পারস্পরিক সাংঘর্ষিক। তাই আমি এ টুকুই …
Popularity: 5%
Most Popular Articles
- প্রাকৃতিক দুর্যোগ ভূমিকম্প নিয়ে নানা তথ্য
- ফুঁসে উঠছে বাংলাদেশ
- সালাহউদ্দিন আইয়ুবীর অপেক্ষায়
- ছাত্রীদের মিছিল চলেছে মৃত্যুর ওপারে
- কনসার্ট কি শ্লীলতাহানির হাতিয়ার?
- যুদ্ধাপরাধ ও ন্যায় বিচার
- অটোসাজেশন
- টি-২০ বিশ্বকাপ রেকর্ডস
- Chhatra League’s sexual offences: a widespread state of denial
- পহেলা বৈশাখ
- যোগাযোগ
- নতুন প্রজন্মের মুক্তিযুদ্ধ
- যুদ্ধাপরাধের বিচারের নামে প্রতিপক্ষ দমনের নীল নকশা
- নরপশুদের পাথর নিক্ষেপে হত্যার অনুমতি চাই
- ইসলাম ধর্ম, চিত্ত বিনোদন ও আনন্দ
Recent Discussions
- সৌরভ চ্যাটার্জী: আপনার লেখ টা পরলাম, পুর-পুরি মানতে পারলাম না। পহেলা বৈশাখ সব বাঙালীদের একতার উৎসব… এই উৎসব কে...
- ababil pakhi: good writing,
- Delwar: Consert destroying our culture. So need to save from it and aware of our present generation, more write need...
- Delwar: Thanks for good note.
- আব্দুর রহমান: আওআমেলীগের এটি চির চেনা চরিত্র। আশাকরি তারা কথা কাজের মিল কি জিনিস তা শেখার চেষ্টা করবেন।
- পরান: তথ্যভিত্তিক লিখার দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।
- ধানসিঁড়ি: আপনাদেরকেও ধন্যবাদ সুন্দর একটি সাইট উপহার দেয়ার জন্য। আপনাদের অগ্রযাত্রা সফল হোক।
- পালা বদল: ধন্যবাদ আপনার সুন্দর একটি লেখার জন্য।