বিস্তারিত
নরপশুদের পাথর নিক্ষেপে হত্যার অনুমতি চাই
“ব্যভিচারিনী ও ব্যভিচারী উভয়ের প্রত্যেককে এক শত বেত্রাঘাত করো৷ আর আল্লাহর দীনের ব্যাপারে তাদের প্রতি কোন মমত্ববোধ ও করুণা যেন তোমাদের মধ্যে না জাগে যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান আনো ৷ আর তাদেরকে শাস্তি দেবার সময় মু’মিনদের একটি দল যেন উপস্থিত থাকে ৷ ব্যভিচারী যেন ব্যভিচারিনী বা মুশরিক নারী ছাড়া কাউকে বিয়ে না করে এবং ব্যভিচারিনীকে যেন ব্যভিচারী বা মুশরিক ছাড়া আর কেউ বিয়ে না করে ৷ আর এটা হারাম করে দেয়া হয়েছে মু’মিনদের জন্য”। সূরা আন-নূর আয়াত ২-৩
কতটা অসভ্য হলে, কতটা নির্মম হলে কাউকে নরপশু বলা যায়? বাংলা ভাষায় নিকৃষ্ট মানুষকে বিশেষিত করার উপযুক্ত শব্দের বড়ই অভাব। কখনো কখনো মানুষ অপরাধের এতটাই অতলে ঢুবে যায় যে তাকে নরপশু বলে বিশেষিত করলে পশুদেরও অপমান করা হয়। মানুষ এতটাই নীচে নামতে পারে যে কুকুর কিংবা হায়েনার পক্ষে অতটা অসভ্য হওয়াও অসম্ভব।
২ বছর ৯ মাস বয়স মেয়েটির। আধো আধো কথা বলে, বাবা বাবা বলে ঝাপিয়ে পরে দরিদ্র রিক্সাওয়ালার বুকে। কতটুকু সময়ই বা কাছে পায় মা-বাবাকে? দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত পরিবারটির বিকলাঙ্গ বাবা সূর্যোদয়ের সাথে সাথেই ছুটে চলে রিক্সা নিয়ে অন্নের সন্ধানে। শিশু কন্যাকে রেখে মাও ছোটে ভদ্দরনোকদের বাড়ীতে বাড়ীতে ছুটো কাজে। অবুঝ শিশু সারাদিন একাকি খেলে আপন মনে। বাবার বয়সী কাউকে দেখলেই আনন্দে টগবগিয়ে ওঠে কোলে, বাবার বয়সী সবাই যেন ওর চাচ্চু কিংবা মামা। পাড়ার মেয়েদের মায়ের মতোই আপন বলে মনে হয় শিশুটির।
কোন কিছুই গুছিয়ে বলার ক্ষমতা নেই ওর, শরীরের সব অঙ্গের নামও অজানা। কি করে সৌচ কর্ম সারতে হয় তাও শেখা হয়নি, এখনো এসব কাজে মায়ের উপর নির্ভরশীল মেয়েটি। দুধের শিশু, এখনো ভাতের মতো শক্ত খাবারও হজম করতে অভ্যস্ত নয় পাকস্থলী, তবু অনেক কিছুই হজম করতে হয় এ বয়েসী মেয়েদের।
সমাজে অনেক নরপশু আছে যারা এমন নিষ্পাপ শিশুদের দেখলেই সবার সামনে আম্মু আম্মু বলে কোলো তুলে চুমো খায়, আবার আড়ালে পেলেই শিশুদের মাঝেও খুঁজে পায় বিকৃত যৌনাচারের উপকরণ। এমনই অসভ্য পশুর লালসার শিকার হলো রাজধানীর উত্তরখানের নিষ্পাপ অবুঝ শিশু। যৌনাচার শব্দের সাথে পরিচিত নয় শিশুটি, মেয়ে কিংবা ছেলে কিনা তাও তার অজানা। অথচ যে শিশু এখনো দুধ খাওয়া ছাড়েনি সে শিশুকেই রক্তাক্ত করেছে মানুষ নামের অসভ্য জানোয়ার। মানুষ নামের হায়েনার জন্য পুরো মানব জাতিই আজ ওর কাছে আতঙ্কের বিষয়। মানুষের মতো হিংস্র পশু দেখলেই চিৎকার করে মুখ লুকোয় মায়ের বুকে। জীবনের শুরুতেই যে শিশু মুখোমুখি হায়েনার সাথে, কি করে সে স্বাভাবিকভাবে টিকে থাকবে মানুষের মাঝে?
বাংলাদেশের আনাচে কানাচে প্রতিনিয়ত এভাবেই যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন ভবিষ্যত প্রজন্ম বেড়ে উঠছে। পিশাচের হাত থেকে মুক্তি মেলে না দু বছরের শিশু হতে শুরু করে ষাটোর্ধ বৃদ্ধাদেরও। জানোয়ারদের মাথা নেই, হৃদয় নেই, বিবেকের স্থান নেই, সর্বশরীরটাই যেন ফনা তোলা বিষাক্ত কালকেউটে সাপ।
শিশুরা যৌনাচারের অর্থ জানে না, যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েও কাউকে কিছুই বলতে পারে না। কি বলবে ওরা, ধর্ষণের মতো কেতাবী শব্দ শিখতে হলেও তো অন্তত ছ বছর বয়স হওয়া চাই, ছ বছরের আগেতো স্কুলেও ভর্তি নেয়া হয় না।
স্কুলেও নিরাপদ নয় কন্যা শিশুরা। নিরাপদ নয় ছেলেরাও। শিক্ষকের হাতে বিকৃত যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রাণ হারাতে হয় অনেককেই। শিশুরা নিরাপদ নয় ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও। মাদ্রাসার শিক্ষকের বিকৃকির শিকার হয় অনেকে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো যৌন নির্যাতনে কলঙ্কিত হয়েছে বারেবার। বিশ্বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের যৌন নির্যাতন এখন অনেকটাই স্বাভাবিক বিষয়। বিশ্ববদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতার চেয়েও বোধহয় যৌনকলায় পারদর্শিতা সর্বাগ্রে বিবেচ্য।
শিশুরা বলতে পারে না, তাই ওরাই যৌন নির্যাতনের প্রথম টার্গেটে পরিণত হয়, শিশুদের উপর যৌন নির্যাতনের খবরও থেকে যায় খবরের আড়ালে। শিশুদের উপর সহজেই জোর করা যায়, ভয় দেখানো যায়, ভুলিয়ে ভালিয়ে রক্তাক্ত করে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়া যায়। শিশুরা আজ নিরাপদ নয় বাবার কোলেও, নিরাপদ নয় ওরা নিরাপত্তারক্ষী পুলিশের হাতেও। হায়েনাদের হাত থেকে আজ নিস্তার মেলে না মানষিক প্রতিবন্ধী, বিকলাঙ্গ কিংবা বধির শিশুদেরও।
যৌন নির্যাতনে পিছিয়ে নেই ধর্ম যাজকেরা। ইশ্বরের দোহাই দিয়ে ভাষাহীন শিশুদের উপরও চালানো হয় যৌন নির্যাতন। ধর্মের নামে দেশে দেশে খৃষ্টীয় ক্ষুধার্ত ধর্ম যাজকেরা চালায় বিকৃত যৌনাচার। যৌন বিকৃতি থেমে নেই নিদিষ্ট কোন ধর্মের মাঝে, ছড়িয়ে পড়েছে মহামারি আকারে বিশ্বব্যাপী। হিন্দু ধর্ম গুরুদের বিরুদ্ধেও যৌন নির্যাতনে মামলার খবর প্রকাশিত হয় পত্রপত্রিকায়। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে ৫৩ . ২২% শিশু যৌন নিগ্রহের শিকার, স্বীকার করেছে সরকারী জরিপ। বাংলাদেশে সরকারী তেমন কোন জরিপের খবর শুনিনি, বেসরকারী জরিপে উঠে আসছে শিশুদের যৌন নির্যাতনের ভয়ংকর চিত্র। বাংলাদেশের শিশুদের অবস্থাও যে ভারতীয়দের চেয়ে খুব একটা সুবিধেজনক নয় তা সহজেই অনুমান করা যায়। বিশেষ করে ছিন্নমূল পথ শিশুর অর্ধেকেরও বেশী যৌন নির্যাতনে বিপর্যস্ত। বিকৃত যৌনাচারে আক্রান্ত হয়ে ওরা পরিণত হচ্ছে মরণব্যাধী এইডসের শিকারে।
অথচ এ থেকে পরিত্রানের কোন লক্ষণ নেই। বিশ্বব্যাপী যৌনাচার বিরোধী আন্দোলন গড়ে উঠছে, পাশাপাশি বেড়ে যাচ্ছে অবাধ যৌনাচারকে উস্কে দেয়া উপায় উপকরণ। পত্রপত্রিকা, রেডিও টেলিভিশন, ইন্টারনেট সবকিছুতেই যৌনতার হাতছানি। মিডিয়াগুলো যৌন সুড়সুড়ি ছাড়া একটা শেভিং ক্রিমের বিজ্ঞাপন দিতেও যেন অক্ষম। যে শিশুদের আদরে আদরে ভরিয়ে দিতে মনপ্রাণ হয়ে ওঠে উতলা, যে শিশুদের নিষ্পাক মুখের দিকে তাকিয়েই পার করে দেয়া যায় প্রহরের পর প্রহর, সেই শিশুদেরকেও মিডিয়া উপস্থাপন করে যৌনউদ্দীপক উপকরণ হিসেবে। ক্যামেরা জুড়ে তুলে ধরা হয় হামাগুড়ি দেয়া শিশুর পাছা, বিজ্ঞাপনটি পুরো না দেখলে বুঝা কষ্টকর এটি আসলে নীলছবির প্রদর্শণী না কি কোন নিষ্পাপ শিশুর ছবি। যে বিজ্ঞাপনী প্রতিষ্ঠান শিশুদেরকে কামোদ্দীপকভাবে উপস্থাপন করেছে অমন পশুদের পক্ষেই সম্ভব দুধের শিশুদেরকে যৌন নির্যাতনে বাধ্য করা।
সামাজিক মূল্যবোধ, ধর্মীয় মূল্যবোধ, সর্বোপরি সাধারণ মানবিকগুণাবলীও আমাদের মাঝ থেকে বিদেয় নিয়েছে। আমরা এসব মূল্যবোধগুলো ফিরিয়া আনার পরিবর্তে পাশ্চাত্যের অন্ধ অনুকরণে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিতে তৎপর। যে ব্রিটিশরা হাজার হাজার শিশুকে জোর করে বিভিন্ন কলোনী রাষ্ট্রে নির্বাসিত করে যৌনাচারে বাধ্য করেছে তাদের শেখানো পথে আমরা আমাদের শিশুদের ঠেলে দেই নিকষ আঁধারে।
বাংলাদেশের শিশুদেরকে যদি অন্ধকারে থেকে আলোর পথে ফেরাতে হয় তবে তাদেরকে অবশ্যই নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে হবে। তাদের শেখাতে হবে আলোকিত মানুষের কথা, জাগ্রত করতে হবে ন্যায় অন্যায় বোধ। শেখাতে হবে তাদের পাপ পূণ্যের কথা, বেহেস্ত দোজখের কথা। আইনের শাসনের অভাবে দেশে ন্যায় অন্যায়ের কোন মূল্য নেই, ঠিকই বুঝে নেবে একটু বড় হলেই, তাই আইনের শাসনের মুলোতে শিশুরা আলোকিত হতে পারে না, ওদের আলোকিত মানুষ হতে অবশ্যই ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে হবে।
অবাধ যৌনাচার বন্ধ করতে হবে, বন্ধ করতে হবে যৌনতাকে উস্কে দেয়ার যাবতীয় উপকরণ, কামোদ্দীপক বিজ্ঞাপন, পত্রপত্রিকার অশ্লীল ছবি। পাপমুক্ত সুন্দর সমাজ নির্মানে অবশ্যই শরীয়াহ আইন চালুর ব্যাপারে সবাইকে জনমত গড়ে তুলতে হবে। আপাত শরীয়াহ আইন পুরোপুরি চালু করা যদি সম্ভবপর নাও হয় তবু কয়েকটি মৌলিক অপরাধের জন্য বিশেষ করে ধর্ষণ ও হত্যার ক্ষেত্রে শরীয়াহ আইন চালু করে এ আইনের প্রয়োজনীয়তা যাচাই করা যেতে পারে।
যারা ইসলামের কথা বলেন, ইসলামী রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখেন, শরীয়াহ আইন বাস্তবায়নের আশায় দিন গোনেন তারা যদি ধর্ষণের মতো পাপাচার প্রতিরোধে শরীয়াহ আইন চালুর দাবীতে সোচ্চার হন তাহলে গণতান্ত্রিক সরকারের মাধ্যমেও তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হতে পারে।
আর আলেম সমাজকে অবশ্যই ফিরে আসতে হবে ইসলামের মূল ধারায়। অপ্রিয় হলেও সত্য যে ইসলামের প্রধান শত্রুই এখন দুনিয়াপুজারী আলেম সমাজ। আলেম সমাজকে অবশ্যই তওবা করে ফিরে আসতে হবে আল্লাহর আশ্রয়ে। আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত শাস্তি আধুনিক বিশ্বে যত মানবতাবিরোধীই মনে হোক না কেন, যত কঠোরই মনে হোক না কেন, শরীয়াহ আইন বাস্তবায়নে তাদেরকে অবশ্যই ঐতিহাসিক ভূমিকা রাখতে হবে। নয়ত অবাধ যৌনাচারের সামাজিক ব্যধির কারনে যদি আল্লাহর ফায়সালা নেমে আসে তবে তার জন্য মূলত দায়ী হবেন আলেমরাই।
Popularity: 20%